GOOD FOOD সঙ্গে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন

0 0
Read Time:6 Minute, 20 Second

খুলে গেছে শহরের প্রায় সব রেস্তোরাঁ, কিন্তু ছবিটা বদলে গেছে আমূল। আগের সেই সহজ ‘ইটিং আউট’-এর ছবি এখন কোথায়? কোভিড-১৯-এর ভীতি আজ পালটে ফেলেছে সেই চেনা আডা মেরে কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার ছবি। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ভীষণরকম সচেতন শহরের সব হোটেল-রেস্তোরাঁ। তবে হ্যাঁ, ভোজরসিকদের হতে হবে আরও অনেক বেশি সচেতন। fssai (Food Safety and Standards Authority of India)-ও বেঁধে দিয়েছে কিছু বিধিনিষেধ-

  • খাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককেই ওয়াকিবহাল থাকতে হবে কোভিড-১৯-এর সকল প্রকার উপসর্গ সম্পর্কে। কাজে যোগ দেওয়ার আগে সকলকেরই নিজের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো জরুরি। এতে তার সহকর্মীর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। এছাড়া মাস্ক এবং বারবার স্যানিটাইজারের ব্যবহার জরুরি।
  • থুতু ফেলা একেবারে নিষিদ্ধ।
  • হোটেল বা রেস্তোরাঁয় ‘কোভিড-১৯ স্ক্রিনিং প্রোটোকল’ থাকা জরুরি। থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে কর্মী এবং যারা খেতে আসবেন তাদের প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখা বাধ্যতামূলক। কারও তাপমাত্রা ৩৭.৫ সে. বা ৯৯.৫ ফা.-এর বেশি হলে / সর্দি-কাশির লক্ষণ, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি থাকলে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করা যাবে না।
  • হোটেল বা রেস্তোরাঁয় ঢোকার সময় হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • প্রত্যেককে ঢোকার সময় ‘Self declaration’ দিতে হবে।
  • কর্মীদের এবং হোটেলে যারা খাবার সরাবরাহ করেন তাদের প্রত্যেককে প্রতিদিনের শারীরিক পরিস্থিতির রিপোর্ট দিতে হবে। কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
  • রেস্তোরাঁর ভেতরকার এসির তাপমাত্রাতেও দিতে হবে নজর। তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৪-৩০ ডিগ্রির মধ্যে।
  • সোশ্যাল ডিসটান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল বা রেস্তোরাঁয় দু’জন ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ২ মিটারের দূরত্ব থাকতেই হবে। সেক্ষেত্রে কিচেনে কর্মীদের সংখ্যাও বিবেচনা যোগ্য। জায়গা ছোট হলে কর্মী সংখ্যাও সেই অনুযায়ী রাখতে হবে।
  • স্টিকার বা ফ্লোর মার্কারের মাধ্যমে দূরত্ব নির্ধারণ করে দিতে হবে।
  • মুখোমুখি কথোপকথন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
  • খাওয়ার জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার এবং স্যানিটাইজ করতে হবে।
  • Food Establishment ( মানে যেখানে রান্নার জিনিসপত্র কাটাকাটি হয় / রান্না হচ্ছে / খাবার রাখা হচ্ছে / প্যাকেজিং এরিয়া / সার্ভিস এরিয়া / ময়লা ফেলার জায়গা ) নিয়মিত পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  • রান্নার জন্য ব্যবহৃত বাসনপত্র প্রতিবার খুব ভালমতো ডিটারজেন্ট দেওয়া জলে ধুতে হবে। সম্ভব হলে সেটা যেন গরম জলে ( ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ) হয়।
  • রেস্তোরাঁর রান্নাঘর প্রতিটা রান্নার পর খুব ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  • Raw material, package material ইত্যাদির জন্য অন্তত ২/৩ দিন আগে অর্ডার করার চেষ্টা করুন। এর ফলে প্যাকেট নির্দিষ্ট সময় আইসোলেশনে রাখা যাবে এবং সংক্রমণ অনেকটাই এড়ানো যাবে।
  • কর্মীদের পরিষ্কার ইউনিফর্ম, মাস্ক / ফেস কভার, যদি প্রয়োজন হয় গ্লাভস পরতে হবে। সবসময় মাথা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে।
  • যেসব সবজি বা ফল আমরা রেস্তোরাঁয় কাঁচা খাই সেগুলোকে প্রথমে 50 ppm ক্লোরিনে (বা সমতুল্য সলিউশন) ধুয়ে তারপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার না বানিয়ে কাস্টমারের অর্ডার অনুযায়ী খাবার বানানোই শ্রেয় এতে খাবার নষ্টের সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি ডেলিভারির বিকল্প থাকলে ভাল।
  • কাস্টমারদের মধ্যেও অন্তত ২ মিটারের দূরত্ব রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে রেস্তোরাঁর ৫০ শতাংশ কাস্টমার থাকাই শ্রেয়। ওয়েটিং লাউঞ্জেও স্টিকারের মাধ্যমে দূরত্ব নির্ধারণ করতে হবে। কোভিড-১৯ আবহে হোটেল/ রেস্তোরাঁয় বুফের ব্যবস্থা না থাকাই ভাল। এতে ভিড় এড়ানো যাবে।
  • কাস্টমারদের জন্য বলা, অনলাইনে বা ফোনে আগে থেকে খাবার অর্ডার করুন। রেস্তোরাঁর নিজস্ব অ্যাপলিকেশনও ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি দাম মেটান অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে।

 

কিছু জরুরি তথ্য তুলে দেওয়া হল এই স্বল্প পরিসরে। মনে রাখবেন একটি হোটেল বা রেস্তোরাঁ তাদের নিজের নিজের মতো করে সচেতনতা অবলম্বন করছে। কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে ভোজনরসিকদের মানে আমাদের। এখনই রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে ভিড় না করাই শ্রেয়।

About Post Author

Charlesses

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %